আমরা যখন বায়োইনফরমেটিক্স নিয়ে কাজ করি, কম্পিউটারের স্ক্রিনে বসে বিভিন্ন Protein Sequening Data Analysis করি কিংবা নতুন কোন Protein Structure এর পরিবর্তন নিয়ে চিন্তিত হই , তখন কি কখনো মনে হয় এই ফিল্ডটার শুরু কোথা থেকে হয়েছিল, কিংবা কে প্রথম ভেবেছিল, কম্পিউটারের কিছু কোডের ভাজে, আমরা আমাদের জীবন রহস্যের কোডগুলোও ভাঙতে পারবো?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই আমি একদিন আবিষ্কার করেছিলাম এক অসাধারণ নারী বিজ্ঞানীকে—Margaret Oakley Dayhoff (The Dawn of Bioinformatics)
যার নামটি ইতিহাসের পাতায় হয়তো কখনোই ঐভাবে আলোচিত ছিলনা , কিন্তু যেদিন প্রথম protein FASTA ফাইলটা খুলে হাতে নিয়েছিলাম, PAM matrix টি ব্যবহার করে Protein sequence alignment করেছিলাম—সেদিন হয়তো নিজের অজান্তেই হেঁটেছি তাঁর রেখে যাওয়া পথে।
আর এরপর যতই বায়োইনফরমেটিক্সের গভীরে যাত্রা শুরু করেছি, ততই জেনেছি এই মানুষটার সম্পর্কে, জেনেছি তাঁর হাত ধরে তৈরি হওয়া প্রথম প্রোটিন সিকোয়েন্স ডাটাবেস, যেটিই ছিল বায়োইনফরমেটিক্সে সেই সময়ের একমাত্র ডাটাবেস, এখানে বলে রাখা ভালো যে সালটা তখন ১৯৬৫ । আর এরপর তার দেয়া PAM Matrix, যেটি এখনও সকলে নিজের অজানতেই ব্যবহার করে চলেছে, PBLAST এর আড়ালে,এছাড়াও তিনি তৈরি করেছিলেন “Atlas of Protein Sequence and Structure” । সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হল এই মানুষটি যে সময়ে এই অসাধারণ কাজগুলো করেছে তখন বায়োইনফরমেটিক্সের সূচনাতো ঘটেইনি আর না ঐভাবে ঘটেছিল কম্পিউটারের বিকাশ !
একজন নারী হয়ে তিনি যেভাবে ১৯৬০–৭০ দশকে এই অসাধারণ কাজগুলো করেছিলেন, সেটা শুধু আমার কাছেই নয় বরং সকলের কাছেই অনেক বড় অনুপ্রেরণা। আর আমি যখনই PBLAST রান করি, কিংবা কোন Protein sequence নিয়ে কাজ করি—তখনই মনে হয়, কোনো এক সন্ধ্যায় এই মানুষটি হয়তো ভেবেছিল এই অসম্ভব চিন্তাটা—"Can biology be digitized?"
হয়তো সেই ভাবনার উত্তর খুঁজতে গিয়েই শুরু হয়েছিল বায়োইনফরমেটিক্সের গল্পটি (Dawn of Bioinformatics)।
আর যেই গল্পের সূচনাকার ছিলেন—Margaret Oakley Dayhoff।
আজও যখন কোন তরুণ গবেষক আমার কোন বায়োইনফরমেটিক্স ক্লাসে বসে প্রশ্ন করে, কিভাবে শুরু হল এই বায়োইনফরমেটিক্সের যাত্রা, আমি তখন গর্বের সাথে বলি—এই পথটা এসেছিল একজন স্বপ্নবাজ নারীর হাতে গড়া একটি অসম্ভব স্বপ্ন থেকে।
